[ad_1]
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহরাব হোসেন প্রভাত বলেছেন, জুলাই বিপ্লব ছিল সাধারণ জনগণের, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সিঁড়ি হওয়ার জন্য এই আন্দোলন হয়নি। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আন্দোলনের বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও দ্বিমত পোষণ করেছেন।
প্রভাত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "জুলাইয়ের তপ্ত দুপুরে যখন নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় আমরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমাদের মাথায় কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ছিল না। আমাদের সাথে ছিল সাধারণ জনতা।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, সাধারণ মানুষের রক্তে অর্জিত এই বিপ্লবকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবকে টিকিয়ে রাখতে হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেই (বৈছাআ) টিকিয়ে রাখতে হবে। তিনি দাবি করেন, এনসিপি মূলত জুলাইয়ের মূল চেতনার সংগঠন নয়, বরং এটি বৈছাআ থেকে তৈরি হওয়া একটি ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এনসিপি যদি জুলাইয়েরই সংগঠন হতো, তবে কেন নিউজ বা ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিয়ে দল ভারী করতে হতো?"
মেহরাব হোসেন প্রভাত তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে সাধারণ মানুষ রাজপথে নামবে না, কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ঠিকই নেমেছিল। কারণ রাজনৈতিক দল শুধু নিজেদের কথা বলে, আর সাধারণ মানুষ সবার কথা বলে। একদল ড. ইউনূসকে সাহায্য না করে সমালোচনায় মেতেছে উঠেছিল , এখন অন্যদল তারেক রহমান কে নিয়ে করে, এভাবেই সকল রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। এভাবে জুলাইয়ের সংগঠনের শিকড় কেটে রাজনৈতিক দল শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার তিনি ঘোর বিরোধী। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সবাই চুপ হয়ে গেছে, যা জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, "জুলাই কারো বাপ-দাদার সম্পত্তি না, বৈছাআ-ও কারো ব্যক্তিগত সংগঠন না। আমি সেই মূল স্পিরিটের সাথে আছি যা সাধারণ মানুষের। বিপ্লবের চেতনা আমি বিক্রি হতে দেব না!"
[ad_2]