
আপডেটঃ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা শ্যাডো ক্যাবিনেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছায়া মন্ত্রিসভা কী, তাদের ভূমিকা কী এবং তারা কোনো সরকারি সুবিধা পান কি না—এসব প্রশ্ন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে ফেসবুকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যকর্মী ডা. তাসনিম জারা। তার পোস্টে তিনি বলেন, সরকারে যেমন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে মন্ত্রী থাকেন, তেমনি বিরোধী দলও প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী মনোনীত করতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করা, ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং বিকল্প নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরা—এগুলোই হবে ছায়া মন্ত্রীদের প্রধান দায়িত্ব।ডা. তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, ছায়া মন্ত্রীরা সরকার থেকে কোনো বেতন, গাড়ি বা সরকারি সুবিধা পান না। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা, যার মাধ্যমে বিরোধী দল জনগণের কাছে নিজেদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি তুলে ধরতে পারে। তার মতে, কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে রাজপথকেন্দ্রিক আন্দোলনের বদলে নীতিনির্ভর রাজনীতির চর্চা জোরদার হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, একজন মন্ত্রী যদি জানেন যে তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করার জন্য বিপরীতে একজন দক্ষ ছায়া মন্ত্রী রয়েছেন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সতর্কতা ও জবাবদিহিতা তৈরি হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে, আর ছায়া অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বিশ্লেষণে দক্ষ হতে হবে। এতে রাজনীতিতে পেশিশক্তির বদলে মেধা ও গবেষণানির্ভর প্রতিযোগিতা গড়ে উঠতে পারে।
তবে বাস্তবতায় এই ধারণা সফলভাবে প্রয়োগ করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, যদি ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল আনুষ্ঠানিক পদবি হয়ে থাকে এবং গবেষণা বা তথ্যভিত্তিক কাজ না করে, তাহলে এর কোনো সুফল মিলবে না। তা সত্ত্বেও, অন্তত কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে কার্যকরভাবে এই মডেল বাস্তবায়ন করা গেলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
IPCS News : Dhaka :