[ad_1]
নখের পাশে হঠাৎ ব্যথা, লালভাব, ফোলা বা পুঁজ দেখা দিলে অনেকেই এটিকে সাধারণ সমস্যা মনে করেন। কিন্তু এটি হতে পারে নখকুনি (Paronychia), যা নখের চারপাশের ত্বকের একটি সংক্রমণ বা প্রদাহ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি বাড়তে পারে এবং নখের ক্ষতিও হতে পারে।
নখকুনি (Paronychia) কী?
নখকুনি হলো হাত বা পায়ের নখের চারপাশের ত্বকে হওয়া সংক্রমণ বা প্রদাহ। এটি সাধারণত নখের গোড়া, নখের কোণে, নখের পাশের অংশ বা কিউটিকলের আশেপাশে দেখা যায়। ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, আঘাত বা ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সমস্যা হয়।
নখকুনির ধরন:
১. তীব্র নখকুনি (Acute Paronychia):
হঠাৎ শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে ব্যথা, ফোলা ও পুঁজ তৈরি করতে পারে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
২. দীর্ঘস্থায়ী নখকুনি (Chronic Paronychia):
ধীরে ধীরে হয় এবং ৬ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় থাকতে পারে। একাধিক নখ আক্রান্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন পানি, সাবান, ডিটারজেন্ট বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে এটি বেশি হয়।
নখকুনি কেন হয়?
নখকুনি হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হলো-
১. নখ কামড়ানো, নখের পাশের চামড়া খোঁচানো
২. হ্যাংনেইল টেনে ছেঁড়া (নখের পাশের উঠে যাওয়া চামড়া টেনে ছেঁড়া)
৩. ভুলভাবে ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর করা (ভুলভাবে হাত ও পায়ের নখ, আঙুল ও হাতের ত্বকের যত্ন নেওয়া)
৪. ইনগ্রোন নখ (নখের ধার বা কোণা পাশের ত্বকের ভেতরে ঢুকে যাওয়া)
৫. হাত-পা দীর্ঘসময় ভেজা রাখা , ঘন ঘন ডিটারজেন্ট বা রাসায়নিক ব্যবহার করা
৬. ডায়াবেটিস রোগ,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা
৭. টাইট ও ভেজা জুতা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা
৮. নখে জীবাণু সংক্রমণ হলে (ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস), যেমন- স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস (Staphylococcus aureus) ও ক্যান্ডিডা অ্যালবিকান্স (Candida albicans) ত্বকের ক্ষতস্থানে প্রবেশ করলে সংক্রমণ হয়।
লক্ষণসমূহ:
নখকুনি হলে সাধারণত দেখা যায়-
১. নখের পাশে ব্যথা , তীব্র ব্যথা
২. লালভাব ও ফোলা
৩. গরম অনুভব হওয়া ও পুঁজ জমা
৪. স্পর্শ করলে ব্যথা
৫. নখ বিকৃত হওয়া ও গুরুতর ক্ষেত্রে নখ উঠে যাওয়া ।
ঘরোয়াভাবে করণীয়:
হালকা নখকুনিতে কিছু ঘরোয়া উপায় উপকারী হতে পারে-
১. কুসুম গরম পানিতে আক্রান্ত আঙুল ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখা, দিনে ৩–৪ বার করা
২. আক্রান্ত আঙ্গুল ও নখ পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
৩. নখ খোঁচানো বা কামড়ানো বন্ধ করা
৪. পুঁজ থাকলে তা চাপ দিয়ে বের করার চেষ্টা না করা
৫. টক ও টকজাতীয় কোন খাবার না খাওয়া
৬. মিষ্টি ও মিষ্টিজাত খাবার না খাওয়াই ভাল।
চিকিৎসা:
নখকুনিতে কার্যকরী কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের নাম-
Hepar sulphuris, Silicea, Myristica sebifera, Graphites, Sulphur, Ledum palustre, Acid Nitricum, Natrum Sulphuricum, Pyrogenum, Anthracinum—এইসব ওষুধ অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত সেবন করা উচিত নয়। কারণ রোগীর লক্ষণ, শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরণ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ নির্বাচন না হলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সঠিক মাত্রায় সেবণ করতে পারলে কয়েক দিনের মধ্যে উপকার দর্শে।
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
পুঁজ বেশি হলে,ব্যথা তীব্র হলে, জ্বর থাকলে, লালভাব ছড়িয়ে গেলে, কয়েকদিনেও না কমলে , ডায়াবেটিস থাকলে, বারবার নখকুনি হলে।
প্রতিরোধের উপায়:
নখ কামড়ানো বন্ধ করা, কিউটিকল না কাটা, হাত-পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, ডিটারজেন্টে কাজ করলে গ্লাভস ব্যবহার করা, ঘন ঘন ডিটারজেন্টে ব্যবহার না করা, নখ খুব ছোট করে না কাটা, নখের পাশের চামড়া উঠলে তা টেনে টেনে না ছেঁড়া ।
পরিশেষে, নখকুনি ছোট সমস্যা মনে হলেও অবহেলা করলে জটিল হতে পারে এমন সমস্যা। শুরুতেই যত্ন নিলে এটি দ্রুত ভালো হয়ে যায়। তবে সংক্রমণ বেশি হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লেখক-
ডা. গাজী খায়রুজ্জামান
(হোমিওপ্যাথ)
মোবাইল: ০১৭৪৩৮৩৪৮১৬
[ad_2]