• বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
সোনারগাঁয়ে চাদাঁ না দেওয়ায় বিএনপি নেতার বাড়ীতে হামলা, আহত ৪ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিতে আগ্রহী মালদ্বীপ, বাড়াতে চায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা টানা ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রোববার কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ফতুল্লায় বাজার পরিচালনা কমিটির মতবিনিময় সভা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বিএনপি সভাপতি কে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ – IPCSBDPress বন্দরে কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা, গ্রেপ্তার নেই নারায়ণগঞ্জে মন্দিরভিত্তিক শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পুরস্কৃত নারায়ণগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড মুন্সিগঞ্জে যাদের নেতৃত্বে আজমেরী ওসমানের পক্ষে মিছিল

কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন


হাম রোগ কী?

হাম (Measles-মিজলস) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই রোগ মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

কোন ভাইরাস দ্বারা হয়?

হাম রোগ হয় Measles virus-মিজলস ভাইরাস দ্বারা, যা Paramyxoviridae –প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের একটি ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই এই ভাইরাস অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।

কেন হয়?

হামের বিস্তারের পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো— টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ টিকাদান , আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, অপুষ্টি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ।

হামের লক্ষণ:

হাম সাধারণত কয়েকটি ধাপে প্রকাশ পায়—

১. প্রাথমিক লক্ষণসমূহ- জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া , চোখ দিয়ে পানি পড়া ।

২. পরবর্তী লক্ষণ- মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots-কপলিক স্পটস), শরীরে লাল ফুসকুড়ি (rash-র‌্যাশ), যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ।

বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর কারণ:

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হামের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো—

১. টিকাদানের ঘাটতি- অনেক শিশু এখনো সম্পূর্ণ টিকা পায় না।

২. অপুষ্টি- অপুষ্ট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।

৩. জটিলতা (Complications-কমপ্লিকেশনস)- হাম থেকে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে— নিউমোনিয়া , ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা , মস্তিষ্কে সংক্রমণ (Encephalitis-এনসেফালাইটিস) ।

৪. দেরিতে চিকিৎসা- সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় রোগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধের উপায়:

হাম প্রতিরোধে কিছু কার্যকর উপায়—

১. শিশুকে সময়মতো সম্পূর্ণ টিকা দেওয়া (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

২. পুষ্টিকর ও সুষম খাবার নিশ্চিত করা

৩. ভিটামিন A সমৃদ্ধ খাবার (গাজর, ডিম, শাকসবজি)

৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা

৫. আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা:

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিছু প্রচলিত ওষুধ—

Aconitum napellus- হঠাৎ জ্বর ও অস্থিরতা থাকলে, Belladonna – উচ্চ জ্বর, মাথা গরম, চোখ লাল হলে, Rhus tox- ফুসকুড়ি, চুলকানি, জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, অস্থিরতা; নড়াচড়ায় আরাম পাওয়া লক্ষণে, Pulsatilla- সর্দি-কাশি ও কোমল স্বভাবের শিশু, Bryonia alba- শুকনো কাশি ও নড়াচড়ায় কষ্ট, Gelsemium- দুর্বলতা ও ঝিমুনি থাকলে, Euphrasia officinalis- চোখ দিয়ে পানি পড়া ও জ্বালা থাকলে, Dulcamara- স্যাঁতসেঁতে, ঠান্ডা বা আর্দ্র আবহাওয়ায় জ্বর ও ফুসকুড়ি বৃদ্ধি পেলে।

রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন করতে হবে যা একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎকই নির্বাচন করতে পারেন আর উক্ত ঔষধগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনক্রমেই ব্যবহার করা যাবে না ।

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলা করলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। টিকাদান নিশ্চিত করা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে হামের বিস্তার রোধ করতে।

সতর্কীকরণ:

এই লেখাটি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণীত। উল্লিখিত তথ্যসমূহ সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচ্য। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা গুরুতর দুর্বলতা বা অচেতনতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে ।

 

লেখক: 

ডা. গাজী খায়রুজ্জামান

             ডি এইচ এম এস

            হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কলামিস্ট।

            মোবাইল: ০১৭৪৩৮৩৪৮১৬




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts