[ad_1]
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, যারা বলেন আমরা কেন মাঠে ঘাটে গিয়ে খাল খনন কেন করছি? তাদের বলতে চাই- আমাদেরকে শেকড় ভুল গেলে চলবে না। আমরা যারা শেকড় ভুলে যাই, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে ৫ আগস্ট বার বার ফিরে আসে। উন্নয়নের জন্য আমাদের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। আমাদের চেয়েছি বলেই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটা বড় প্রকল্প সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই হাতে নিতে পেরেছি। আমরা চেয়েছি বলেই প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করতে পেরেছি।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার হেমায়েতপুরের মন্ডলপাড়ার পদ্মকোল খনন উদ্বোধনী অষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন,অত্যন্ত ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। সরকার গঠনের একমাসও পূর্ণ হয়নি। তবুও এরই মধ্যে বিএনপি সরকার দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ মন্দিরের ইমাম পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা ও কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছি।
তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ জীবনমান উন্নয়নের জন্য শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সময় খাল থেকে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এবার খননের মাধ্যমে খালকে পুনরুজ্জীবন দিয়ে সেচ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের আওতায় সারা দেশে ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আজ উদ্বোধন হচ্ছে। মরে যাওয়া খালগুলো পানিপ্রবাহ ফিরে পেলে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনই গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে।
পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সেক্রেটারি জহুরুল ইসলাম সহ অনেকেই।
প্রসঙ্গত, পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে মন্ডলমোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এই খালটি পাবনা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ৬ ফুট গভীর ও গড় ৪০ ফুট প্রশস্ত করে খালটি খনন কাজ শুরু হচ্ছে। এই খালটি পূর্ণ খনন হলে পদ্মা থেকে ইছামতিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। খালের পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর ইউনিয়নের জমিগুলো সহজেই সেচ সুবিধা পাবে। এই কর্মসূচির আওতায় এটি ছাড়াও পাবনায় ১০৬ টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
[ad_2]