
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ভেতর থেকে গ্রেফতারকৃত আসামি ইসমাঈল হোসেনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার সেকেন্ড অফিসার জহিরুল ইসলামকে ক্লোজড করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
বুধবার (১ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, দায়িত্বে অবহেলার কারণে জহিরুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যদি তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা বা গুরুতর অবহেলার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে তাকে পুনর্বহাল করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আড়াইহাজার থানায় এই পলায়নের ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া আসামি ইসমাঈল হোসেন (৩০) উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের চরকমলাপুর এলাকার বাসিন্দা এবং হাবিবুল্লাহর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ ও ২৪ মার্চ চরকমলাপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্রসহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মোট ১৩ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। তারা হলেন— আব্দুল্লাহ (৩৭), মাছুম (৩৫), ইয়াহিয়া (৫০), ইয়ানুছ (৪০), ইসমাঈল (৩০), জালাল (২৮), জাকারিয়া (৪৮), ইয়াছিন (২০), হাবিরুল্লাহ (৬০), মাহাবুল্লাহ (৫৫), রোমান (২৬), সবুজ (৩০) এবং জুয়েল (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইসমাঈলকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, তাকে গ্রেফতার করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজিত কুমার। পরে থানায় এনে সেকেন্ড অফিসার জহিরুল ইসলামের কক্ষে বসানো হয়। সেখান থেকেই কৌশলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর পরে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গভীর রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুর বাজার এলাকা থেকে ইসমাঈল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: আড়াইহাজার থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই আসামি গ্রেপ্তার