[ad_1]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দীর্ঘদিনের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দূর করতে পাকিস্তানি খাল খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এসময় তিনি বলেন, অতীতে যে সরকার ছিল, তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। কিন্তু অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন হয় নাই এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষিত যে উন্নয়ন, সেই উন্নয়ন হয় নাই এবং পরিকল্পিত উন্নয়নও হয় নাই। সুতরাং আমরা আশা করছি যে বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, এই সরকার জনগণের দুর্ভোগ বিষয়ে সচেতন রয়েছে, সজাগ রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই ডিএনডি নিয়েও যে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন, সেই পরিকল্পনা এই সরকার গ্রহণ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, বলেন, ফতুল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে এই এলাকার মানুষ স্থায়ী সমাধানের সুফল ভোগ করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত: ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর এলাকায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের বিষয়ে স্থানীয় জনগণ ১ এপ্রিল জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মো: মামুন মাহমুদ এর সাথে দেখা করে তাদের দুর্ভোগের কথা বর্ণনা করেছিলেন। সেদিনই তিনি সরেজমিনে পূর্ব ইসদাইর এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে নিষ্কাশন খাল সংস্কারের আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার সকালে কাজ শুরু করালেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে থাকা ফতুল্লা ইউনিয়নের ইসদাইর, লালপুর, পৌষারপুকুরপাড়, মাসদাইর, গাবতলী এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পাকিস্তানি খালটি ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত দুই দশকে দখলের কারনে খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। খাল দিয়ে পানি প্রবাহ না হওয়ায় বছরের প্রায় ৯ মাস ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা পানির নিচেই থাকতো। সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কারণে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং ফতুল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।
[ad_2]