
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, রাজস্ব আহরণ হচ্ছে মধু আহরণের মতো। সে কারণে করদাতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাকে সোনার ডিম পারা হাঁসের মতো মেরে ফেললে তো হবে না। হয়রানি বা জুলুম করা যাবে না। রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ডিজিটালাইজেশন। ৩২ বছর পরও ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। ব্যয় বেশি হলে, আয় কম হলে, ঋণ বেড়ে যায়। এটা যেমন পরিবারের জন্য সত্য, দেশের জন্যও প্রযোজ্য। গতকাল এই বিষয়টি বলেছিলাম, কিন্তু মিডিয়ায় ভুলভাবে এসেছে। মূল কথা রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে।
বুধবার (৯ ডিসেম্বর) এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ‘সময় মতো নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর ও কমিশনারেট কার্যালয়ে উদযাপন হচ্ছে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাটের প্রবৃদ্ধি ২০১২ সালে এসে ধাক্কা খায়। নতুন আইন ১৯৯১ সালের আইনের চেয়ে সহজ হওয়ার কথা থাকলেও বরং আরও জটিল হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন না, বরং জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করেন। ভ্যাটের মৌলিক প্রিন্সিপাল হলো। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেয় না, তারা শুধু কালেক্টর। এটি সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আয়করে বড় ধরনের লিকেজ রয়েছে। রাজস্বের বড় অংশ আসা উচিত আয়কর থেকে, এরপর ভ্যাট আর কাস্টমস থেকে সবচেয়ে কম। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত হারে আদায় বাড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব বাড়ছে, তবে যে হারে বাড়ার কথা সেই পরিমাণে বাড়ছে না। টার্নওভার ৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখ করেছি। সাথে সাথে ৫০ লাখ রেজিষ্ট্রেশন হওয়ায় কথা। সেটা তো হয়নি। সকল তথ্যই ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টদের কাছ আছে। কারা নেটের বাইরে রয়েছে। এখন অনেকে বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। কারণ দেশে তারা কর প্রশাসনের সহায়তা পায় না। যারা কর দেয়, তাদের যদি নার্সিং করতে না পারি, তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে না। রাজস্ব আহরণ হচ্ছে মধু আহরণের মতো। সে কারণে করদাতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাকে সোনার ডিম পারা হাঁসের মতো মেরে ফেললে তো হবে না। বিভিন্নভাবে হয়রানি বা জুলুম করা যাবে না।